:

দুনীর্তি মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাভেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬জনের বিচার শুরু

top-news

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে। 

সকালে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ৫ এপ্রিল। একইসাথে পলাতক জাবেদসহ ২৮ আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই মামলায় কারাগারে আছে ৮ জ

ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে ২৫ কোটি লোপাট এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন গতবছরের ২৪ জুলাই মামলাটি দায়ের করে। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামানসহ ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদুকের দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। এর পরে বছর ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য ‘টাইম লোনের’ আবেদন করেন।

এর আগে ঢাকার একটি আদালত সাইফুজ্জামান  জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি সম্পত্তিসহ বিভিন্ন দেশে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া দেশে থাকা  তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেয় আদালত।

নেতিবাচক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ব্যাংক ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকা ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে সে টাকা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে  এ পর্যন্ত সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় জাভেদের বিরুদ্ধে ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সরকারের ভূমিপ্রতিমন্ত্রী  ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *